আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া এবং সম্পাদক ও প্রকাশককে গ্রেফতার করে সরকার যে আত্মপরিচয়ের দৃষ্টান্ত দেখালো তা নিয়ে অন্যান্য সংবাদপত্র ও বুদ্বিজীবি মহলের প্রতিক্রিয়া আতংকজনক। সেদিক বিচারে জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদকে ধন্যবাদ তার সাহসী ও স্পষ্ট মতামতের জন্য। যুগান্তর, ০৩/০৬/১০ সংখ্যায় প্রকাশিত তার “খারাপ দৃষ্টান্ত” শিরোনামে লেখা থেকে কিছু অংশ:
- গতকালের একটি বিস্ময়কর সংবাদ। দৈনিক আমার দেশের ডিক্লারেশন বাতিল করে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করতে মধ্যরাতে তার অফিসে শতাধিক পুলিশের অভিযান। ঘটনাটি ষাটের দশকে আইয়ুব আমলে ইত্তেফাক ও সংবাদ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল এবং সম্পাদকদের গ্রেফতারের ঘটনাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
- যে অভিযোগে আমার দেশের ডিক্লারেশন বাতিল ও সম্পাদককে গ্রেফতারের জন্য হানা দেয়া হয়, তা খুবই ঠুনকো।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী কাজটি করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক। আসলে তিনি হুকুমবরদার মাত্র। কাজটি হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে। এবং যে কোন সাধারণ মানুষও বোঝে, সে নির্দেশের পেছনে রয়েছে রাজনীতি আর কিছু নয়। - ভিন্নমত সহ্য করতে না পারা স্বৈরশাসকদের চারিত্র্য। গণতান্ত্রিক শাসকদের কাছে তা প্রত্যাশিত নয়। কিন্তু আমরা এটাও জানি এবং কুড়ি শতকের ইতিহাসও সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্রের সূতিকাগার থেকেই ফ্যাসিবাদ জš§ নেয়। হিটলার বা মার্কোস নির্বাচিত শাসক ছিলেন। ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড় শত্র“ সংবাদমাধ্যম। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে হত্যার মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী শাসন শক্তি অর্জন করে। ভিন্নমত সহ্য করতে না পারা স্বৈরশাসকদের চারিত্র্য। গণতান্ত্রিক শাসকদের কাছে তা প্রত্যাশিত নয়। কিন্তু আমরা এটাও জানি এবং কুড়ি শতকের ইতিহাসও সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্রের সূতিকাগার থেকেই ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়। হিটলার বা মার্কোস নির্বাচিত শাসক ছিলেন। ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড় শত্র“ সংবাদমাধ্যম। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে হত্যার মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী শাসন শক্তি অর্জন করে।
- আমার দেশ কর্তৃপক্ষ গতকালই আশঙ্কা করছিল, তাদের ওপর আঘাত আসতে পারে। একটা চক্রান্ত চলছে, তা তারা টের পেয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলন করে মাহমুদুর রহমান তা বলেছেনও। এর মধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর সরকারের অসহিষ্ণুতার লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টকশোর ওপর নানারকম নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যমুনা টিভির প্রচারে অনুমতি দিতে সরকার গড়িমসি করছে। এসবই মতপ্রকাশের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা। বিশেষ করে ভিন্নমতকে সরকারের ভয়।
- যে প্রক্রিয়ায় আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়, তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।
- সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত গণতন্ত্রের ওপরই আঘাত। সে আঘাত জনগণের নাগরিক অধিকারের ওপর আঘাত। সে আঘাত মানবাধিকারের ওপর আঘাত।
- মাহমুদুর রহমানের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও তার নীতি-আদর্শের সঙ্গে আমি মোটেই সহমত পোষণ করি না। কিন্তু তার এই গ্রেফতারকে আমি প্রতিহিংসামূলক কাজ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিপীড়ন করা ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারি না।
- আমি এক সময় একটি দৈনিকের সম্পাদক ছিলাম এবং একজন লেখক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করি। আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আদেশ বাতিল করে অবিলম্বে আমার দেশ প্রকাশের পথে স্বেচ্ছাচারী বাধা অপসারণ করা হবে।